টানা ৭ ম্যাচে গোল করে অনন্য রেকর্ড গড়লেন মেসি

সাধারণত ৩৯ বছর বয়সে অধিকাংশ ফুটবলারই মাঠ থেকে অবসর নিয়ে নতুন কোনো অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু লিওনেল মেসি বয়সের বাধা তুচ্ছ করে এখনো প্রতি ম্যাচেই বিশ্বফুটবলের নতুন সব ইতিহাস লিখছেন। সোমবার টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মেসি তার চিরায়ত মহাজাগতিক রূপ প্রদর্শন করেছেন।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে এক দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তিনি জর্ডানের রক্ষণভাগের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে। একইসঙ্গে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ৭টি ম্যাচে গোল করার একক বিশ্বরেকর্ডটি কেবল মেসিই নিজের দখলে নিয়েছেন।

এর আগে ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জাইরজিনহোর ঝুলিতে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল। জর্ডানের বিপক্ষে এই জাদুকরী গোলটির মাধ্যমে ফন্টেইন ও জাইরজিনহোকে পেছনে ফেলে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭ ম্যাচে গোলের মহাকাব্য রচনা করলেন মেসি।

কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৩টি ম্যাচ এবং চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ—সব মিলিয়ে টানা ৭টি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল পেয়েছেন এলএমটেন। এবারের আসরে মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলেই তিনি ৬টি গোল করে গোলদাতার তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে যেভাবে তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, তা প্রমাণ করে যে কেন তাকে সর্বকালের সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মেসির এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই গ্রুপ ‘জে’ থেকে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা। আগামী ৩ জুলাই পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে কেপ ভার্দ।