বর্তমান ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধ করতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৫৯ বছরের পুরোনো বিদ্যমান আইনটি বাতিল করে যুগোপযোগী নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হলো। নতুন এই আইনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধের সাথে জড়িতদের জন্য সাত বছরের জেল এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস করা হয়।
এই আইনে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সরঞ্জাম, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল জুয়া, প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, বাজি, পণ্য, বাজিকর ও ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪টি বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী এই আইনে ১৪ ধরণের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বর্তমান ডিজিটাল যুগের অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জুয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
এ কারণেই পুরোনো আইনটি রহিত করে কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম এবং ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ডের সুযোগ রয়েছে। নতুন এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
