বিশ্বের তিনটি দেশে একই দিনে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে যে, এসব ঘটনার মধ্যে কোনো আন্তঃসম্পর্ক আছে কি না। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জাপান, ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সংঘটিত এই ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের সরাসরি যোগসূত্র বিদ্যমান নেই।
জাপানে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতেও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে এমন অল্প সময়ের ব্যবধানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি করলেও, ভূতত্ত্ববিদরা একে পৃথিবীর স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ক্যালটেকের ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্স জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পগুলো মূলত আলাদা ফল্ট ব্যবস্থা ও প্লেট সীমানায় সংঘটিত হয়েছে। তাই একটি ভূমিকম্পের প্রভাবে অন্যটি ঘটেছে—এমন ধারণাটি কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসম্পন্ন নয়।
ড. জোন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটা বড় কোনো ভূমিকম্প সাধারণত বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে আরেকটি ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে না। তাঁর মতে, ঘটনাগুলো একই দিনে ঘটলেও স্থান এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি ভূমিকম্পই সক্রিয় প্লেট সীমানা বরাবর হয়েছে, যেখানে কয়েক দশক কিংবা শতাব্দীব্যাপী ভূতাত্ত্বিক চাপ জমা হচ্ছিল। এসব এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়া প্রাকৃতিক চক্রেরই একটি প্রত্যাশিত অংশ। তবে এই ভূমিকম্পগুলো ঠিক কখন আঘাত হানবে, তার নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর কিছু সময় পরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ভূমিকম্পগুলোর প্রভাবে ব্যাপক প্রাণহানি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রদান করা হয়নি।
