০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২৪ জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র তার সাধ্যমতো শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে। সেই সঙ্গে যারা অন্যায়ভাবে আপনজনকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার এ দেশের আইন অনুযায়ীই হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিচারের নামে যেন কারো প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কিছুটা বিলম্ব হলেও অন্যায়কারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মৃতিস্মারক তুলে দেন। শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই স্মারক গ্রহণ করেন। পরে অন্যান্য পরিবারের কাছেও তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তারেক রহমান উপস্থিত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বৈরাচারের সময় থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা আন্দোলনের সফলতায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবার কাছেই আমার বার্তা—বিচারের নামে যেন কারো প্রতি অবিচার না হয়। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সময় থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিগত ১৭ বছরের যতজন শহীদ হয়েছে, তাদের কষ্ট আমি অনুভব করতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শহীদদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের ফসল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গেছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪’শ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
তিনি আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে। শহীদদের স্বপ্নের বাস্তবায়নই এখন প্রধান কাজ। বিএনপির সাহস ও শক্তি আছে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, যেন কোনো শক্তিই দেশ ও জনগণকে লক্ষ্যচ্যুত করতে না পারে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্বজন ও আহত যোদ্ধারা তাদের আবেগঘন অনুভূতি ও যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। পুরো গ্যালারি তখন চোখের পানি ও দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে।

