পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নওয়ানী গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে রেজাউল মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় এক কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার বিকেলে, যখন রেজাউল মোল্লা একটি জলাশয়ের কাদায় কাজ করছিলেন। সেই সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। বরং চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক করান। পরে বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নেন এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে এবং তিনি অস্থিরতা অনুভব করেন। পরিবারের সদস্যরা সকালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তিনি পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সকাল ৮টার দিকে তার অবস্থার চরম অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি মারা যান।
সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, “সাপে কাটা রোগীকে কোনো অবস্থাতেই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজের ওপর নির্ভর করা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নয় এবং এতে রোগীর মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

