সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বর মামলার চার্জ দাখিল

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বা অভিযোগ জমা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এ সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়েছে। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আগামী ২৭ জুলাই (সোমবার) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলাটি বিচার শুরুর পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ফরমাল চার্জ দাখিলের দিনই সবার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে এই মামলায় ৯ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত