তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, লালমনিরহাটে বন্যা সতর্কতা

ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে টানা বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করায় লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নদীর পানির অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তিস্তা ব্যারাজের সবকটি ৪৪টি জলকপাট (গেট) সম্পূর্ণ খুলে দিয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।

সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে সকাল ১১টায় কিছুটা কমে তা ৫২ দশমিক ২৩ মিটারে রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে। বিকেল ৩টা নাগাদ পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ১৬ মিটার, যা বিপৎসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ১ সেন্টিমিটার বেশি।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই পানির তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন ও পাউবো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানি আরও বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীর পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাটের বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম; হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী; এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, পানি আরও বাড়লে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক কৃষক এরই মধ্যে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত