দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সিরিজ জয় ভারতের

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে অনায়াসে ৯ উইকেটে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। স্মৃতি মান্ধানার পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে এটি প্রথম সিরিজ জয়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট বজায় রেখে ভারত জয় তুলে নিয়েছে ৬৭ বল বাকি থাকতেই, যা নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০-এর অধিক রানের লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বল হাতে রেখে জয়ের রেকর্ড।

ব্যাটিং তাণ্ডবে শাফালি-মান্ধানার রেকর্ড

জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১০২ রানে আটকে রাখার পর জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার শাফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পাওয়ার প্লে-তেই বিনা উইকেটে ৭৬ রান সংগ্রহ করে ভারত, যা টি-টোয়েন্টিতে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর। শাফালি ভার্মা মাত্র ২৪ বলে তার বিধ্বংসী অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। এর মাধ্যমে তিনি ২০২৬ সালে নিজের নবম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসটি খেলেন, যা এক পঞ্জিকাবর্ষে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। এছাড়া অধিনায়ক স্মৃতির সাথে শাফালির এই জুটি ২০২৬ সালে নবম বারের মতো পঞ্চাশোর্ধ্ব রান যোগ করল, যা নারী টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। শাফালি আউট হওয়ার আগে দ্রুত গতিতে রান তুলে জয়ের ভিত তৈরি করে দেন, যার ওপর ভর করে মান্ধানা অনায়াসে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

বোলিং নৈপুণ্য ও জিম্বাবুয়ের লড়াই

ম্যাচের শুরুতে ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি। চতুর্থ ওভারে নন্দনী শর্মা ওপেনার কেলিস এনডলোভুকে আউট করলে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লে শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২০/১। নবম ওভার নাগাদ ৩০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা গভীর সংকটে পড়ে। তবে চিপো মুগেরি-তিরিপানো এবং অধিনায়ক জোসেফাইন এনকোমো প্রতিরোধ গড়ে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। এরপর অভিষিক্ত নিকি প্রসাদ নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম দুই বলেই উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন। পুরুষ ও নারী ক্রিকেট মিলিয়ে এমন নজির স্থাপনকারী তিনি তৃতীয় বোলার। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে থামে।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • জিম্বাবুয়ে নারী দল: ১০২/৮ (২০ ওভার) – চিপো মুগেরি-তিরিপানো ৩৪, নিকি প্রসাদ ২-৭।
  • ভারত নারী দল: ১০৪/১ (৮.৫ ওভার) – শাফালি ভার্মা ৫৫, স্মৃতি মান্ধানা ৪৭*।
  • ফলাফল: ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।