অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার জের ধরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রোববার রাতে এক অডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের এমন কোনো নির্দেশনা তাকে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা কোনো অস্পষ্ট সূত্রের মাধ্যমে নয়, বরং যথাযথ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমেই জানানো হবে। তিনি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে এ ধরনের উড়ো খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান। অডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, পদত্যাগে নির্দেশের খবরটি গুজব। এরকম কোনো সিদ্ধান্ত যদি দল থেকে আমরা নেই তাহলে সেটি উড়ো খবরের মাধ্যমে আসবে না। যে বা যারা এই তথ্য দিয়েছে তারা উড়ো খবর দিয়েছে। সবাইকে অনুরোধ জানাবো— এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।
এর আগে রোববার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় যে, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সরকারের কোনো দায়িত্বশীল উৎস থেকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক প্রতিবাদ পত্রে জানান, মন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। তার মতে, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই কাল্পনিক তথ্য প্রচার করছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও খবরে বলা হয়েছে। প্রকৃত সত্য হলো, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা আরও বলেন, শনিবার নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে আত্মরক্ষার খাতিরে আইনসম্মতভাবে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন, যার ব্যাখ্যা আগেই দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের খবর প্রচার করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। যেসব মাধ্যম এই বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছে, তাদের দ্রুত তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর। অন্যথায়, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় একটি মাদক আস্তানায় অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের অভিযানের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

