মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সীমান্ত এলাকায় ডজনখানেক যুদ্ধবিমান নিয়ে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রদর্শন করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি ও মার্কিন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সোমবারের এই অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমানও যুক্ত ছিল। তেল আবিব থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্বের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে বার্তা দেওয়া। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
উড্ডয়নকালে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্তের বেশ কাছাকাছি পৌঁছায়। সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে, বিমানের চলাচলের পথটি ইরানে সম্ভাব্য কোনো বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত রুটের মতোই ছিল। তবে ইরানের সীমান্ত ঘেষে যাওয়ার পর যুদ্ধবিমানগুলো কোনো আক্রমণ না চালিয়ে পুনরায় ইসরাইলে ফিরে আসে। অভিযানের আগেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল এবং একে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে অভিহিত করে। তারা জানায়, নির্বাচনের আগে ইরান যাতে ইসরাইলে নতুন কোনো আক্রমণ না চালায়, তা রোধ করতেই এই শক্তির মহড়া। সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এমন এক সময়ে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
একই দিনে ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সীমান্ত অভিযানের সঙ্গে হেগসেথের সফরের কোনো প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল না। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই বিমানগুলোর উপস্থিতি টের পাবে তা ইসরাইল আগে থেকেই জানত বলে অনুমান মার্কিন কর্মকর্তাদের। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ধারণা করছেন, ইসরাইল হয়তো চেয়েছিল ইরান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাক, যাতে তাদের ওপর পাল্টা বড় হামলার অজুহাত তৈরি করা যায়। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।
সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সীমানায় এই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ফলে তৈরি ভুল বোঝাবুঝি পরিস্থিতিকে নতুন এক সংঘাত বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারত। বিশেষ করে ইরান যদি এই মহড়াকে সরাসরি হামলার পূর্বপ্রস্তুতি ভেবে পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।

