পেন্টাগনের মূল প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ

পেন্টাগনের মূল প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাদের প্রধান প্রেস অফিসে পেশাদার সাংবাদিকদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে সীমিত করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই অফিসে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রবেশের সুযোগ আর থাকছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে সোমবার, ১ জুন, এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে প্রেস অফিসটিকে এখন থেকে “সেন্সিটিভ কমপার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি” বা এসসিআইএফ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সেখানে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মীরা, বিশেষ করে সামরিক স্পিচরাইটাররা কাজ করবেন, যাদের শ্রেণীবদ্ধ তথ্য ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, এই স্পিচরাইটাররা নিয়মিতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন এবং নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সাংবাদিকদের আর পূর্বের মতো ওই কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

তবে পেন্টাগনের অন্যান্য প্রেস দপ্তর এবং জনসংযোগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। সেখানে যেতে হলে এখন থেকে আগাম অনুমতি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কমপ্লেক্সের ভেতরে সাংবাদিকদের চলাচলের ওপরও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, যেখানে সরকারি নিরাপত্তা সঙ্গী ছাড়া চলাচল করা যাবে না।

এর আগে মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ ঘোষণা দিয়েছিল যে, ভবনের ভেতরে কোনো সংবাদমাধ্যমকে স্থায়ী কার্যালয় বা বুথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি আইনি মামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এরপর থেকেই পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও কাজের পরিবেশ ধীরে ধীরে সীমিত হতে শুরু করে।

সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, এখন পেন্টাগন কমপ্লেক্সে প্রবেশ করা সাংবাদিকদের সবসময় একজন সরকারি নিরাপত্তা সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে হয়। এই নীতিকে অনেক সাংবাদিক সংগঠন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে।

সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান সাংবাদিক সংগঠন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোফ জুনিয়র বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত হলে জনগণের তথ্য জানার অধিকার সংকুচিত হয় এবং স্বচ্ছতা ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’সহ বিভিন্ন মিডিয়া অধিকার সংগঠনও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি সরকারি কার্যক্রমের ওপর স্বাধীন নজরদারি হ্রাস করতে পারে এবং তথ্য গোপনীয়তার পরিধি আরও প্রসারিত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সুরক্ষার যুক্তি দেখানো হলেও এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস স্বাধীনতা ও সামরিক স্বচ্ছতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।