নওগাঁয় নারীদের বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। রবিবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতারণার কৌশল ও চক্রের কার্যক্রম
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত কয়েক মাস ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় একদল প্রতারক বয়স্ক নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অপরাধ করে আসছিল। তারা একটি বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্ত করত এবং এরপর তাদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, “রাসায়নিকটি নাকে প্রয়োগের পর আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে স্মৃতিভ্রংশের মতো অবস্থায় চলে যান এবং প্রতারকদের কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা নিজেরাই অলংকার ও নগদ অর্থ তাদের হাতে তুলে দেন। এমনকি কেউ কেউ বাসার আলমারি খুলেও মূল্যবান জিনিসপত্র বের করে দেন।”
এ ধরনের ঘটনার অভিযোগে নওগাঁ সদর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোর তদন্তে পুলিশ একাধিকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, চক্রটি টাঙ্গাইলে একই ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে যে, তাদের চক্রের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় সক্রিয়। এই চক্রের আট থেকে দশটি দল রয়েছে এবং তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে একই কৌশলে প্রতারণা করে থাকে। নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দশটি ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “প্রতারকেরা সাধারণত তিনজনের দলে কাজ করে। প্রথমে একজন সাহায্যপ্রার্থী সেজে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির কাছে যান। পরে অন্য দুজন কথোপকথনে যুক্ত হয়ে সুযোগ বুঝে রাসায়নিক প্রয়োগ করেন। এরপর ভুক্তভোগী বিভ্রান্ত অবস্থায় তাদের কাছে থাকা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী তুলে দেন।”
পুলিশের তৎপরতা ও চলমান তদন্ত
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
