স্কালোনিকে কেন বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন ইকুয়েডর কোচ বেকাচ্চেচে

দুই পুরোনো সহকর্মী ছিলেন লিওনেল স্কালোনি ও সেবাস্তিয়ান বেকাচ্চেচে। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি এবং ইকুয়েডরের কোচ বেকাচ্চেচে এক সময় হোর্হে সাম্পাওলির কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও দুজনই এবারের বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে উপস্থিত আছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে থাকা পুরোনো তিক্ত সম্পর্কের বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল, যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বেকাচ্চেচে প্রকাশ্যে স্কালোনিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

ভৌগোলিক দিক থেকে তাদের জন্মস্থান খুব কাছাকাছি—একজন পুহাতোতে এবং অন্যজন রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেছেন। দুজনেই নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবের সমর্থক এবং কোচ মার্সেলো বিয়েলসার দর্শনে বিশ্বাসী। তবুও তাদের কোচিং দর্শনে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। স্কালোনি মূলত খেলোয়াড়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দল পরিচালনা করেন, অন্যদিকে বেকাচ্চেচে কৌশলগত দিক এবং শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকেন।

বেকাচ্চেচে মাত্র ২২ বছর বয়সে ২০০২ সালে সাম্পাওলির সাথে কাজ শুরু করেন। পেরুর স্পোর্ট বয়েজ ক্লাবে সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর তিনি দীর্ঘ সময় সাম্পাওলির সাথে বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলে কাজ করেছেন। তার অর্জনের তালিকায় ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০১৫ কোপা জয় অন্যতম। বিপরীতে, স্কালোনি সাম্পাওলির সাথে যুক্ত হয়েছিলেন তার বাবার পুরোনো বন্ধুত্বের খাতিরে। রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার এবং আইসল্যান্ডের সাথে ড্রয়ের পর দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বেকাচ্চেচে ও সাম্পাওলি ধীরে ধীরে দলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন।

সেই কঠিন সময়ে স্কালোনি খেলোয়াড়দের সাথে সুসম্পর্কের জেরে দলে প্রভাব বিস্তার করেন। ফ্রান্সের কাছে হারের পর সাম্পাওলির স্টাফদের বিদায়ের পালা শুরু হলে বেকাচ্চেচে সরে দাঁড়ান। এরপর স্কালোনি অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মূল কোচ হওয়ার পথে এগিয়ে যান। ওই সময় স্কালোনির কোচ হওয়া নিয়ে বেকাচ্চেচে মন্তব্য করেন, ‘আমি ১৪ বছর সাম্পাওলির সঙ্গে ছিলাম এবং প্রতিটি ক্লাবে চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব পেয়েছি। আমার মতে, কারো ছায়ায় এসে কখন সরে দাঁড়াতে হয় তা জানা উচিত।’ এই বক্তব্যের রেশ ধরেই তিনি স্কালোনিকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেন।

অবশ্য গত সাত বছরে সেই তিক্ততায় অনেকটা ভাটা পড়েছে। গত বছরের জুলাইতে এক সাক্ষাৎকারে বেকাচ্চেচে স্কালোনির প্রশংসা করে জানান, ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কালোনি তাকে উৎসাহমূলক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে স্কালোনি তার কাছে থাকা খেলোয়াড়দের শক্তি বুঝে সেই অনুযায়ী দলকে গুছিয়ে নিয়েছেন। স্কালোনিও গত বছর বেকাচ্চেচের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি ইকুয়েডরকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কৌশলের প্রশংসা করেছিলেন। জার্মানির বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে ইকুয়েডরের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই বেকাচ্চেচের দলের সক্ষমতা ফুটে উঠেছে।