শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় নয়জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতদের মধ্যে চারজন শিশু এবং চারজন নারী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার কর্ণঝোড়া বিওপির একটি টহল দল হারিয়াকোনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভোলার মনপুরা উপজেলার আন্ধিরপাড়া গ্রামের আপন জল দাস (৩০), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আঠারবেকি গ্রামের নয়ন তারা (২৫), একই উপজেলার চর আমানউল্লাহ গ্রামের বিজয় হরি জল দাস (৪৬), লম্বরিয়া গ্রামের সুলক্ষী (৪২) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী গ্রামের বীনা দাস (৩১)। তাদের সঙ্গে থাকা চারজন শিশুকেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য সুমন মিয়া, সাজু, আজিবর এবং কালু মিয়ার সঙ্গে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে যাওয়ার চুক্তি করেন তারা। এই চুক্তি অনুযায়ী, বুধবার রাতে আটককৃতরা ঢাকা থেকে শেরপুরের শ্রীবরদীতে এসে পৌঁছান। এরপর তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৯৫-এর প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে হারিয়াকোনা পাহাড়ের জঙ্গলে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে বুধবার রাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে ব্যর্থ হন। এরপর বৃহস্পতিবার পুনরায় ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহল দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, আটককৃতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পাচার চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
