ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে দেশটিতে চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে যে, প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে কয়েক লাখ শিশুসহ প্রায় ১৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পড়ে গেছে। পরপর দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে বাড়িঘর, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি; তারা বর্তমানে আঘাত, রোগব্যাধি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানসিক ট্রমার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
ইতিমধ্যে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা বোঝাই ফ্লাইট পাঠানো হয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পানি ও স্যানিটেশন সামগ্রী, তাঁবু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সংস্থাটি জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অংশীদারদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইউনিসেফ ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপদ পানি প্রাপ্তির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংস্থাটি গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য সময়মতো মানবিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা মেটাতে তারা তাদের অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
