মস্কোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শিশুসহ হতাহত

রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে ইউক্রেন ড্রোন হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ মস্কোর একটি অন্যতম বৃহৎ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। যদিও মস্কো এই হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি, তবে এটি এক সপ্তাহের মধ্যে দুবনা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারটিতে ইউক্রেনের দ্বিতীয়বারের মতো ড্রোন হামলার ঘটনা।

ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে মস্কোর উত্তরে অবস্থিত দুবনা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হানার বিষয়টি মস্কো নিশ্চিত না করলেও, মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানিয়েছেন যে, একটি ড্রোন শহরের একটি ‘প্রশাসনিক ভবনে’ আঘাত হেনেছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই দিনে, মঙ্গলবার মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে ইয়েগোরিয়েভস্কে আরেকটি ড্রোন একটি বাড়িতে বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে এবং দুঃখজনকভাবে এক ছয় মাস বয়সী শিশু মারা যায় বলে গভর্নর ভোরোবিওভ নিশ্চিত করেছেন।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, সোমবার রাত থেকে ইউক্রেন মস্কোর দিকে একের পর এক ড্রোন ছুঁড়েছে। তবে রাশিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪১৯টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি গত সপ্তাহে ৪০ দিনের একটি অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন, যার মূল উদ্দেশ্য রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করা। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেন ক্রমশ রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে আঘাত হানছে, যার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার হলেও মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গেও বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

যুদ্ধ ধীরে ধীরে তাদের দোরগোড়ায় চলে আসায় কিছু রাশিয়ানদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে মস্কো অঞ্চলে এই হামলার জন্য কিয়েভের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বেসামরিক মানুষ ভুগছে, শিশুরা মারা যাচ্ছে।’

এর আগে গত ২২ জুনও ইউক্রেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুবনা যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। মঙ্গলবারের হামলার কথা স্বীকার না করলেও, প্রথম হামলার ব্যাপারে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, কেন্দ্রটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল। তবে সেবার যোগাযোগ এবং টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো কর্মী আহত হননি।