ইরানের নেতা খামেনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে নিন্দা জানালো বাংলাদেশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সরাসরি নিন্দা প্রকাশ করেনি। সেই সময় কেবল শোক ও দুঃখ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল ঢাকা। তবে শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠককালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নিন্দা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উক্ত বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই জাতীয় শোকের সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। এছাড়া বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শতবর্ষী বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করা হয়। একইসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পশ্চিম দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছিল, তবে সেখানে নির্দিষ্ট করে ইরানের নাম বা খামেনির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। এরপর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরেকটি বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুতে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানায়। তবে ওই বিবৃতিতে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়নি। চার মাস পর বাংলাদেশ সরকার সেই অবস্থান পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনি হত্যার নিন্দা জানালো।