সাতক্ষীরা জেলার পারিবারিক আদালত-২ এক অসুস্থ সাত বছরের শিশুর চিকিৎসার খরচসহ ভরণপোষণ দিতে তার বাবাকে আদেশ দিয়েছেন। আদালত শিশুটির হাতে অস্ত্রোপচারের জন্য ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং মায়ের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ের পর থেকে শিশুটির পড়াশোনা ও চিকিৎসার নিয়মিত খরচ বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এক বছর আগে। শিশুটি মায়ের সঙ্গে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় বসবাস করে, আর বাবার বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায়। তবে তিনি একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত। চিকিৎসার কাগজপত্র অনুযায়ী, শিশুটি ‘ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন’ নামে একটি রক্তনালির গঠনগত ত্রুটিতে ভুগছে, যার ফলে তার বাঁ হাত ডান হাতের তুলনায় অস্বাভাবিক ফোলা ও কালচে বর্ণের হয়েছে এবং স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
গত বছরের মার্চ মাসে শিশুটির মা সাবেক স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও ছেলের চিকিৎসার খরচ চেয়ে আদালতে আরজি করেছিলেন। মামলার ১৩ মাস পর গত ১২ এপ্রিল বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় শিশুটির মা প্রথম বাদী এবং শিশুটি দ্বিতীয় বাদী। শিশুটির মা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।
মামলা চলাকালীন এক শুনানির দিনে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ফেরদৌস হোসেনের অনুরোধে বিচারক শিশুটিকে ডায়াসে ডেকে নেন। তিনি শিশুটির অস্বাভাবিক ফোলা ও কালচে বাম হাতটি দেখেন। এর আগে, মামলা চলাকালীন বিচারক শিশুটির বাবার প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন এবং মৌখিকভাবে বলেছিলেন যেন তিনি উৎসবে ছেলেকে কিছুটা বেশি টাকা দেন। তবে শিশুটির বাবা মাত্র তিন মাস এই আদেশ মেনে চলেছিলেন এবং মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মায়ের বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এবং বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর। অসুস্থ শিশুটি তাদের একমাত্র সন্তান। শিশুটির মা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। গত বছরের মার্চে যখন মামলাটি করা হয়েছিল, তখন পৃথক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়নি এবং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান বিষয়ে মামলা করার আগে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন ২০২৬–এর আওতায় মধ্যস্থতার জন্য লিগ্যাল এইডে আবেদন করার বিধান কার্যকর হয়নি।
শিশুটির চিকিৎসার জন্য ঢাকায় দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়। একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র, অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রায় আড়াই লাখ টাকার প্রয়োজন জানিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩–এর আওতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে পৃথক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আদালতের আদেশের বিষয়ে মন্তব্য জানতে শিশুটির বাবার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ছোট ভাই জানিয়েছেন, তিনি রায়ের কথা শুনেছেন এবং আদালত রায় দিয়েছেন যখন, তখন তার ভাই নিশ্চয়ই তা পালন করবেন।

