ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাকে বদলি, রিলিজ প্রদান এবং অবসরোত্তর ভাতা (পেনশন) উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার বেতন-ভাতাও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না বৃহস্পতিবার নলছিটি পৌরসভা এবং নাচনমহল ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় অনিয়মের বিষয়গুলো সরেজমিনে অবগত হওয়ার পর তিনি পৌরসভার প্রশাসককে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনোভাবেই বদলি বা রিলিজ দেওয়া যাবে না।
প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২০ সাল থেকেই একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা ছিল। এর মধ্যে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০২ এর প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজে দুর্নীতি এবং জলবায়ু ট্রাস্ট সহায়তা তহবিলের দুই কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে অর্থ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ থাকলেও এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গত বুধবার ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় জেলা প্রশাসক মমিনউদ্দিন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিনই তিনি নলছিটিতে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয় নাগরিকরা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, যেসব রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ নলছিটি পৌরসভায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

