ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি সংযোগ নিয়ে ‘নোংরা রাজনীতি’র অভিযোগ ডাকসু নেতার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপন করা ২১টি এসির বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ‘নোংরা রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছেন।

মাজহারুল ইসলাম জানান, ডাকসু ফান্ড পাওয়ার পর তারা তৎকালীন উপাচার্যের (ভিসি) সাথে দেখা করেন এবং তার মৌখিক অনুমোদনে মসজিদ সংস্কারের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ট্রেজারারের কাছে আবেদন করা হলে তা কোনো কারণ ছাড়াই খারিজ করে দেওয়া হয়। পরে পুনরায় উপাচার্যের কাছে গিয়ে অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রেজারার অফিসে আবেদনটি পাঠানো হয়। এরপর প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বাজেট তৈরি করা হয়, যেখানে ১০৫ টন এসি স্থাপনের সুপারিশ ছিল। অথচ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি না নেওয়ার যে দাবি করেছে, তা এই প্রক্রিয়ার সাথে সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে মাজহারুল জানান, তারা মসজিদের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০ কিলোওয়াট বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অব্যবহৃত সাব-স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেন। এই স্টেশনটির সক্ষমতা ১৮০০ কিলোওয়াট এবং এটি দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে অচল ছিল। প্রকৌশল বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিকাদার প্রায় দুই মাস আগে ৩০ লাখ টাকা জমা দিলেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান উপাচার্য ওবায়েদ স্যার দায়িত্ব দেওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন না হওয়াকে তিনি নগ্ন রাজনীতি বলে আখ্যায়িত করেন।

ডাকসু নেতা আরও দাবি করেন, মসজিদ সংস্কার কাজের উদ্বোধনের সময় স্বয়ং উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ. ফ. ম খালিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের উপস্থিতিতে সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। এত প্রমাণ থাকার পরেও অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ তোলা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং জানতে চেয়েছেন, আসলে কার অনুমতি প্রয়োজন।

মাজহারুল ইসলাম লেখেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমরা স্পন্সরের ফান্ড থেকে আলাদা একটা সাবস্টেশন বসাতে চেয়েছিলাম। প্রকৌশল বিভাগ থেকে সামাজিক ভবনের সাব স্টেশন চালু করার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। এই স্টেশনটির সক্ষমতা ১৮০০ কিলোওয়াট, আমাদের মসজিদের জন্য প্রয়োজন ২০০ কিলোওয়াট। দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে এটা চালু হচ্ছে না। প্রকৌশল বিভাগের পরামর

‘বর্তমান ভিসি স্বয়ং ওবায়েদ স্যার দুমাস আগে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে একমাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরেও কেন চালু হচ্ছে না। এই বিদ্যুৎ কানেকশন চালু হলে শুধু মসজিদই নয়, বরং বাকি ১৬০০ কিলোওয়াট প্রশাসন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ সহ আশেপাশে প্রয়োজনীয় জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।’