কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার টেংরার ভিটা গ্রামের ময়নাল হোসেনের স্ত্রী ছিলেন। তাদের সংসারে দুই শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে ছোটটির বয়স মাত্র ছয় মাস। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী ময়নাল হোসেন, শাশুড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে রান্নার কাজে জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে মাহমুদার বাকবিতণ্ডা হয়। এই কলহের জের ধরে দিনভর পারিবারিক অস্থিরতা ছিল। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সন্ধ্যার দিকে ছয় মাসের শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বিকেলে বাবার বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমানের অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল, যা নিয়ে স্বামী ও শাশুড়ি প্রায়ই মাহমুদাকে নির্যাতন করতেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

এদিকে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হবে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।