মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গেটস ফাউন্ডেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান বিল গেটস ১২ জুলাই লিংকডইনে এইডস-মুক্ত একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাঠকদের জন্য লেখাটি প্রকাশ করা হলো। ২০০৭ সালের কথা। তিনি কেনিয়ার নাকুরু শহরের বাসিন্দা ওয়েন্ডো আসেদের বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ টেনে এইডস মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর হার কমলেও প্রতিবছর এখনো ছয় লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন এবং নতুন করে ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে গেটস বিশ্বাস করেন, আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে ২০৪০-এর দশকের শেষের দিকে এইডসকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে নির্মূল করা সম্ভব।
গেটস এইচআইভি ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল করার কথা বলছেন না, বরং তার লক্ষ্য হলো আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে এমন ওষুধ পান যা তাদের এইডস হওয়া থেকে রক্ষা করবে। তিনি আশা করছেন, ২০১০ সালের তুলনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর চিকিৎসার ব্যয়ভার কমবে এবং তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ আমেরিকান এইচআইভিতে আক্রান্ত, তাই এই উদ্যোগ কেবল দরিদ্র দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত জরুরি।
এইডস অবসানের লক্ষ্যে গেটস তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন ‘লেনাকাপ্যাভির’ ইনজেকশন। প্রতি ছয় মাসে একটি ডোজের এই ইনজেকশন রোগী প্রতি বছরে মাত্র ৪০ ডলার খরচে পাওয়া সম্ভব হবে, যা ভারতের হেটেরো কোম্পানির সহায়তায় উৎপাদিত হচ্ছে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। গ্লোবাল ফান্ড ও পেপফার দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া ও জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশে ৩০ লাখ মানুষের কাছে এই ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। এছাড়া গবেষকরা মাসিক পিল ও বার্ষিক সুরক্ষা দিতে সক্ষম এমন সংস্করণ নিয়ে কাজ করছেন।
বিজ্ঞানীরা বর্তমানে একটি কার্যকর নিরাময় পদ্ধতি নিয়েও পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যা জেনেটিক এডিটিংয়ের মাধ্যমে কোষকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখাবে। এটি সফল হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আর প্রতিদিন পিল খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই পদ্ধতি সিকল সেল রোগের নিরাময়েও ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে কনডম ব্যবহার, স্বেচ্ছায় পুরুষ খতনা এবং গর্ভবতী মায়েদের থেকে শিশুর শরীরে ভাইরাস ছড়ানো রোধের মতো সরঞ্জামের কারণে।
তবে গেটস সতর্ক করেছেন যে, বিভিন্ন দেশের সরকার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য তহবিলের বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে, যা গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৬ লাখ নতুন সংক্রমণ ও ৪২ লাখ মৃত্যু ঘটতে পারে। গেটস ফাউন্ডেশন অর্থায়ন অব্যাহত রাখলেও সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব ছাড়া এইডসের অবসান সম্ভব নয়। তিনি ধনী দেশগুলোর নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা এইডসের মতো মহামারির অবসান ঘটানো নেতা হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন।

