আষাঢ়ের চিরচেনা বর্ষণমুখর রূপ হারিয়ে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সিলেট। গত কয়েকদিনের চড়া রোদ আর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সিলেটজুড়ে অসহ্য গরম অনুভূত হচ্ছে। তীব্র এই গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাইরে কড়া রোদ থাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে রাস্তাঘাটে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা কমে আসছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি বছরে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
তীব্র এই রোদ ও গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালকরা জানিয়েছেন, গরমের কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সকালে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও ১২টার পর থেকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। কড়া রোদের মধ্যে রিকশা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা ভাসমান ব্যবসায়ীদেরও, যারা খোলা আকাশের নিচে বসে ব্যবসা করায় তাদের বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এদিকে গরম বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রসালো ফলের জুস ও ডাবের চাহিদা বেড়েছে। তীব্র গরমের ক্লান্তি দূর করতে মানুষ জুসের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার ‘রুবেল জুস কর্নার’-এর মালিক রুবেল আহমদ জানান, গত চার-পাঁচ দিন ধরে তার দোকানে কাঁচা আমের জুস, দই-চিড়া এবং মিল্কশেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হতে শুরু করবে।

