সৌদি আরব থেকে সেনা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বাইডেন প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে।

তীব্র এই মতপার্থক্যের সূত্রপাত হয় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি সামরিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলো উদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল, যার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে রিয়াদ অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউস সৌদি আরবের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়, যা রিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কূটনৈতিক পর্যায়েও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফর করলেও সৌদি আরব যাননি, যা রিয়াদের কাছে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। এর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জি-৭ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

মূলত যুদ্ধ শুরুর আগেই সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের ভয় ছিল, তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ব্যর্থ হলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হবে। যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিলেও, ইরানের পাল্টা হামলার মুখে তারা যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং ওপেক জোট থেকে আমিরাতের সরে যাওয়া সৌদি আরবকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যদিও সম্প্রতি গোলাগুলির ঘটনায় সেই সমঝোতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই আলোচনার বাইরে থাকা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য এই সমঝোতার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।