অভিনয় ও সংগ্রামের গল্পে মার্গো রবির ৩৬ বছর

হলিউডে এমন কিছু অভিনেত্রী আছেন, যাঁরা শুধু অভিনয়ের মাধ্যমে নয়, চরিত্রের জন্য নিজেকে বদলে ফেলার সাহসের কারণেও আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী মার্গো রবি তাঁদেরই একজন। ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’, ‘আই, টোনিয়া’, ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’, ‘বার্বি’ কিংবা ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ প্রতিটি ছবিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন, জনপ্রিয়তার চেয়ে চরিত্রই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ এই তিনবার অস্কার মনোনীত অভিনেত্রীর ৩৬তম জন্মদিন।

১৯৯০ সালের ২ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ডালবিতে জন্ম নেওয়া মার্গোর ছোটবেলা কেটেছে গোল্ড কোস্টে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মা চার সন্তানকে বড় করেছেন। সংসারে অভাব থাকায় কৈশোরেই রেস্তোরাঁয় কাজ, বাড়িঘর পরিষ্কার কিংবা সাবওয়ে রেস্তোরাঁয় স্যান্ডউইচ বানানোর মতো কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ছোটবেলার সেই সংগ্রামই তাঁকে অর্থের মূল্য শিখিয়েছে এবং পরিশ্রম করলে যে সফল হওয়া যায়, তা বুঝতে সাহায্য করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার শুরুর পর ২০০৮ সালে ‘সিটি হোমিসাইড’ সিরিজ দিয়ে হলিউডে পা রাখেন রবি। ২০১৩ সালে ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’-এ লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর বিপরীতে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের ভয় কাটাতে তিনি মদ্যপান করেছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। এই সিনেমার প্রথম বড় পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি মায়ের বাড়ির বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করেছিলেন, যা তার জীবনের অন্যতম আনন্দময় মুহূর্ত।

‘সুইসাইড স্কোয়াড’-এর হার্লে কুইন চরিত্রের জন্য তিনি ছয় মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং এবং পানির নিচে দীর্ঘ সময় শ্বাস ধরে রাখা। পরিচালক ডেভিড আয়ারের মতে, মার্গো নিজেই অধিকাংশ স্টান্ট করেছেন। আবার ‘ফোকাস’ সিনেমায় পকেটমার চরিত্রের জন্য তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন খ্যাতিমান ‘জেন্টলম্যান থিফ’ অ্যাপোলো রবিনসের কাছে। ২০১৭ সালে ‘আই, টোনিয়া’ সিনেমার জন্য তিন মাস স্কেটিং শিখে প্রথমবার অস্কারের সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান তিনি।

২০২৩ সালে ‘বার্বি’ সিনেমার প্রযোজক ও অভিনেত্রী হিসেবে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে ইতিহাস গড়েন মার্গো রবি। এই সিনেমা থেকে পারিশ্রমিক ও বোনাস মিলিয়ে তিনি পাঁচ কোটি ডলার আয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বেশ ব্যতিক্রমী। ১০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও খরচ বাঁচাতে দীর্ঘ সময় রুমমেটদের সঙ্গে থেকেছেন। এছাড়া তিনি এখনো প্রিয়জনদের হাতে লেখা চিঠি পাঠান এবং শরীর নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ‘দ্য লিজেন্ড অব টারজান’ সিনেমার সময় ওজন কমানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সুস্থ থাকাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সংগ্রাম, শৃঙ্খলা ও অভিনয়ের প্রতি নিবেদন তাকে সমসাময়িক হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেত্রী করে তুলেছে।