খামেনির জানাজায় ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায় ও বহুমাত্রিক জানাজা অনুষ্ঠানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সংসদের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারের বিশেষ দূত এবং অসংখ্য জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধি দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইরানের মানুষের জন্য এই অনুষ্ঠানকে তিনি একটি ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানী তেহরানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, যা বিকেলের দিকে উচ্চপদস্থ বিদেশী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে অব্যাহত থাকবে। ইরানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জানাজা আয়োজক কমিটির প্রধান আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, শুক্রবারের আনুষ্ঠানিকতার পর শনি ও রবিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লা হলে মূল বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার একটি বিশাল শোকযাত্রা বা জানাজা মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে বিপুল মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডের একটি বিশেষ হলে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় আচার পালিত হয়। খামেনির অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের ছবিতে দেখা যায়, ইরানি পতাকা এবং ইমাম হোসেনের মাজারের পবিত্র লাল ব্যানার দিয়ে তার কফিনটি ঢেকে রাখা হয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে এই বহুমাত্রিক জানাজা ও শোকযাত্রা চলবে। তেহরান, কোম ও মাশহাদ হয়ে এই শোকযাত্রা প্রতিবেশী দেশ ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে জড়ো হতে শুরু করেছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভি ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফেরও জানাজায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া চীনের প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশের স্পিকার মোহাম্মদ হাফিজসহ কয়েকটি শীর্ষ রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও জানাজায় অংশ নেবেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির মৃত্যুকে শহীদ মৃত্যু আখ্যা দিয়ে জনগণকে ব্যাপক সংখ্যায় জানাজায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা জানাজাকালীন যেকোনো ধরণের হামলা চালানোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ছবিতে তাকে খামেনির কফিনের পাশে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ওয়াহিদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ নীতি-নির্ধারক প্যানেলের সদস্য। উল্লেখ্য, মুজতবা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ইসরাইলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

এই জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন নিরাপত্তা হুমকি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর চাপের মুখে তেহরান এই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে দোহায় মার্কিন-ইরান পরোক্ষ আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে ইরানি প্রতিনিধিদল দেশে ফিরেছে, তবে কাতার জানিয়েছে সংলাপে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।