বাংলাদেশে নতুন ভিসা নীতিমালার অনুমোদন, সহজ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ

দীর্ঘ দুই দশকের পুরোনো নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই নতুন নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, পর্যটন খাতকে গতিশীল করা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর উৎসাহিত করা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক পাওনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় একটি ‘ইকোনমিক থ্রাস্ট’ তৈরি করতে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই বাংলাদেশে এসে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। নতুন এই নীতিমালায় মোট ৩৪ ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা নীতিমালাকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পর্যটন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা যুক্ত থাকবেন। তারা নীতিমালার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রূপ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।