হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি জাতীয় তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাংকারে এই আঘাত হানা হয়। এতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ অধিকার আমিরাত সংরক্ষণ করে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এই হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি বড় হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করছেন। একইসঙ্গে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, যা আগে করমুক্ত ছিল।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

